অক্সিজেন কোন রুগীর প্রয়োজন:

সারাদেশ

করোনার ভয়াল থাবা এখন দেশজুড়ে। সরকারি বেসরকারি কোন হসপিটালেই বেড খালি পাওয়া যাচ্ছে না। অক্সিজেন এর সংকট দিন দিন বাড়ছে। এমত অবস্থায় বাড়িতে রেখেই মুমূর্ষু করোনা আক্রান্ত রুগীর চিকিৎসা করতে হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে। তাই অনেক সামাজিক এবং মানবাধিকার সংগঠন গুলো করোনা আক্রান্ত রুগীর চিকিৎসা সহায়তায় ফ্রী অক্সিজেন সার্ভিস দিচ্ছে। এটা এই মুহূর্তে অনেক বড় একটি মানবিক কাজ।
কিন্তু অক্সিজেন কোন রুগীর প্রয়োজন? কতটুকু প্রয়োজন? কোন মাধ্যমে দিবো? টানা কতক্ষণ দিবো?
সে বিষয়ে একটু লেখার চেষ্টা করছি।

১) কখন অক্সিজেন প্রয়োজনঃ রুগীর অক্সিজেন সেচুরেশন ৯৩% এর নিচে নেমে গেলে।
তবে অনেক সময় পালস অক্সিমিটার আঙুলে ভালোভাবে প্রতিস্থাপন না হলে অথবা ব্যাটারি লো থাকলে, অথবা পালস অক্সিমিটারে সমস্যা থাকলেও অক্সিজেন সেচুরেশন কম দেখাতে পারে। তাই রুগীর শারীরিক কন্ডিশন ও উক্ত বিষয় গুলো খেয়াল করা জরুরি। সেক্ষেত্রে ২ টি পালস অক্সিমিটার দিয়ে চেক করতে পারলে ভালো অথবা রুগীর অক্সিজেন সেচুরেশন কম দেখালে সাথে সাথে অন্য সুস্থ মানুষের অক্সিজেন সেচুরেশন চেক করে দেখে নিতে পারেন সেটা সঠিক কিনা।

২)টার্গেট অক্সিজেন সেচুরেশনঃ
৯৩%-৯৬% হলেই যথেষ্ট। বরং সেচুরেশন ৯৬% এর বেশি হলে অক্সিজেন দিলে সেটা ক্ষতিকর।

৩) কোন রুগীর কতটুকু প্রয়োজনঃ
অক্সিজেন সেচুরেশন ৮৬% -৯২% থাকলে ২-৩ লিটার/মিনিট দিয়ে শুরু করবো, যদি টার্গেট অক্সিজেন সেচুরেশন না হয়,তাহলে অক্সিজেন এর মাত্রা আস্তে আস্তে বাড়াবো।
সেচুরেশন ৮৬% এর নিচে থাকলে ৫লিটার /মিনিট দিয়ে শুরু করবো এবং টার্গেট এ পৌঁছা পর্যন্ত ধীরে ধীরে বাড়াবো। যদি কোন ভাবেই অক্সিজেন সেচুরেশন টার্গেটে না পৌঁছায়, তবে অবশ্যই রুগীকে হসপিটালে ভর্তি করতে হবে।
বি দ্রঃ chronic obstructive pulmonary disease (COPD) রুগীর ক্ষেত্রে অক্সিজেন এর মাত্রা চিকিৎসক এর পরামর্শ নিয়ে দিতে হবে।

৪)কোন মাধ্যমে দিবোঃ কোভিড রুগীর অক্সিজেন অবশ্যই non rebreather face mask এর মাধ্যমে দেওয়া উচিত। এতে রুগী অক্সিজেন বেশি পাবে এবং অক্সিজেন এর অপচয় কম হবে।

৫)কতক্ষণ ধরে টানা অক্সিজেন দিবোঃ টানা ৫-৬ ঘন্টার বেশি অক্সিজেন দেওয়া ঝুকিপূর্ণ, অক্সিজেন সেচুরেশন টার্গেট এ আসলে মাঝে অক্সিজেন বন্ধ রাখতে হবে।

বি দ্রঃ কোভিড রুগীর একমাত্র চিকিৎসা শুধু অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়াই নয়, তাই বাড়িতে অক্সিজেন সাপোর্ট দেয়া সহ যাবতীয় চিকিৎসা অবশ্যই একজন চিকিৎসক এর তত্বাবধানে করতে হবে।

ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *