বাবাকে নিয়ে কাছের মানুষের প্রতি এমপি শিবলী সাদিকের আক্ষেপ :

রাজনীতি

আমার বাবা, হারিয়ে যাওয়ার গল্পটা একটু ভিন্ন
খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন,
আমার বাবা
তবে মানুষকে খুব ভালোবাসতেন,
এতটাই ভালোবাসতেন জীবনের শেষ কয়েকটা দিন, আমি দেখেছি
শরীর সঙ্গ দিচ্ছিল না, তারপরেও অনেক কষ্ট করে তবুও মানুষের মাঝে থাকার চেষ্টা করেছেন,
খুব অবাক লাগে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা আমাদের এলাকায় একটা প্রোগ্রামে এসেছিলেন, বাবার শরীর এতটাই খারাপ ছিল, উনি নিঃশ্বাস নিতে পারছিল না, অক্সিজেন লেভেলটা অনেকটা কমে গিয়েছিল তার, গাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে সেই প্রোগ্রামের মঞ্চের পাশে গিয়ে গাড়িতে বসে ছিল,
আজ একটি কথা বারবার মনে হয়,
বাবা যখন খুবই অসুস্থ,
তখন তার চিকিৎসা করার মত আমার কোনো অবস্থান ছিল না,
বাবা কিডনি রোগী ছিল, প্রতি সপ্তাহে ডায়ালিসিস করতে হত, এলাকার দু-একজন পরিচিত ডাক্তারের সাহায্যে সরকারি হসপিটালে ফ্রিতে তার ডায়ালিসিস করাতেন আমার ছোট মা, কারণ ডায়ালাইসিস করার মত টাকা ছিল না তার কাছে,
তখনো তার নামে কয়েক শত বিঘা জমি ছিল
চাইলেই কিছু জমি বিক্রি করে নিজের চিকিৎসা করাতে পারতেন,
তার জীবদ্দশায় অনেক মানুষকে অনেক কিছু দিয়েছে, তিনি হয়তো দেখতে চেয়েছিলে তাকে ভালবেসে তার পরিবারের মানুষজন অথবা বন্ধুবান্ধব এই দুঃসময়ে এগিয়ে আসে কিনা,
কেউ এগিয়ে আসেনি সেই সময়
মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে অতি নিকটাত্মীয়,
বয়সের ভারে নয়,
সামান্য কটা টাকার জন্য বিনা চিকিৎসায়,
অকালে মৃত্যুবরণ করলেন আমার বাবা,
যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড আমার বাবা কে এখনো জীবিত রেখেছে হাজারো লক্ষ মানুষের হৃদয়ে
সেই রাজনৈতিক অবস্থানটাই তার জন্য কাল হয়ে গেল,
এখন
কোন অসুস্থ মানুষ দেখলেই বাবার কথা খুব মনে পড়ে,
আমি আমার বাবার জন্য কিছুই করতে পারিনি,
একটা ইনসুলিন কত যে মূল্যবান,
তা এখন আমি বুঝি,
তোমাকে অনেক ভালোবাসি বাবা,
তোমার শূন্যতা সারাটাক্ষন অনুভব করি,
তোমার জন্য কিছু করতে, না পারার কষ্টটা
বাকি জীবনে আমাকে বয়ে বেড়াতে হবে
এইটাই বাস্তবতা।
সংসার, তুমি বড় স্বার্থপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *